খড়ের আঁটি বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে কৃষক

EkattorPost Desk

মোহাম্মদ আমিনুল হক বুলবুল, নান্দাইল

২৪ নভেম্বর ২০২২, ০৭:৫৮ পিএম


খড়ের আঁটি বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে কৃষক

ছবিঃ একাত্তর পোস্ট

একাত্তর পোস্ট অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ময়মনসিংহের নান্দাইলে বিভিন্ন বাজারে খড়ের আঁটির হাট বসেছে। আমন মৌসুমে বর্তমানে ধান কাটা শুরু হয়েছে। আর কৃষকরা এই ধানের খড় বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন।

উপজেলার কানারামপুর বাজারে ধানের খড় বিক্রি করতে এসেছেন কুতুবপুর গ্রামের আবু বকর সিদ্দিক (৫০) ও গালাহার গ্রামের রাসেল মিয়া। এতে তাদের মুখে ফুটে উঠেছে তৃপ্তির হাসি। সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন কৃষকেরা।

প্রতিটি ছোট খড়ের আঁটি ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় খড়ের আঁটি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। প্রতিদিন ১শ থেকে ২শ খড়ের আঁটি বিক্রি হয়। আর প্রতিদিন কমপক্ষে ৩ হাজার টাকার খড়ের আঁটি বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে কৃষক। এক মাসে প্রায় ৭০ হাজার টাকার খড় বিক্রি করছেন কৃষক আবু বকর সিদ্দিক ও রাসেল মিয়া।

কৃষক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, এ বছর ৫০ শতাংশ জমিতে আমন ধান লাগাইছি। এই জমি থেকে প্রায় ৮শ খড়ের আঁটি পাইছি। প্রতিটি আঁটি ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি করছি। এই পর্যন্ত ৩০ হাজার টাকার খড় বিক্রি করে অনেক লাভবান হইছি। আরো প্রায় ১০ হাজার টাকার খড় বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি জানান। 

গালাহার গ্রামের কৃষক রাসেল মিয়া বলেন, এ বছর খড়ের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমরা অনেক লাভবান। খড়ের দাম বেড়ে যাওয়ায় ধান চাষে আগ্রহ বাড়ছে। এই পর্যন্ত ৩০ হাজার টাকার মতো খড় বিক্রি করছি। 

তারা বলেন, কৃষকের নিকট থেকে ১০ শতক জমির খড় ৯শ থেকে ১ হাজার টাকায় কিনছি। আর বাজারে প্রতি আটি ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি করছি। আমাদের প্রায় ২ হাজার টাকা লাভ থাকছে। 

সরেজমিন উপজেলার কানারামপুর, বীরকামট খালী,হাটশিরা,দেওয়ানগঞ্জ, খারুয়াসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, কৃষক বাজারে ভেনগাড়ি করে খড়ের আঁটি নিয়ে বিক্রি করছেন। গরুর খামারি ও কৃষক এই খড় কিনে নিচ্ছেন। 

উপজেলার বীরকামট খালী দক্ষিণ বাজারে কথা হয় কৃষক নুরুল ইসলাম ও মিলন মিয়ার সাথে। তারা জানান, খড় বিক্রি করে অনেক লাভবান হয়েছেন।

কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, আমি ৯ হাজার টাকার খড় বিক্রি করছি। একই গ্রামের মিলন মিয়া ৮ হাজার টাকার খড় বিক্রি করেছেন। তারা জানান, এই খড় বিক্রি করেই আমাদের ধান চাষের খরচের টাকা উঠছে। তাই এখন ধানের চেয়ে খড়ের কদর বেশি।

তারা বলেন, অথচ কয়েক বছর আগে খড়ের কোন মূল্যই ছিল না। ক্ষেত থেকে নিয়ে যেত অনেকেই। ক্ষেতেই পচে নষ্ট হতো। এখন খড় কেউ আর বিনামূল্যে দিতে রাজি না। খড়ের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমরা ধান চাষে লাভবান।

কৃষক মোশারফ হোসেন, মোতালেব বলেন, আমরা আমন ধান কাটার পর ক্ষেতেই খড় বিক্রি করছি। এক কাঠা জমির খড় ১ হাজার টাকা বেচছি। 

উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় ২২ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদ হয়েছে।

উপজেলার বীরকামট খালী গ্রামের কৃষক আলিম উদ্দিন, মোসলেম উদ্দিন বলেন, খড়ের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমরা বেশি দামে কিনছি। এতে গরু পালনে আমার খরচ অনেক বাড়ছে। 

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান বলেন, চলতি আমন মৌসুমে আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ বছর খড়ের চাহিদাও অনেক বেশি। আর তাই দামও বেশ চড়া। কৃষকেরা এখন ধানের খড়ের প্রতি খুবই যত্নশীল হয়েছেন। অনেকে খড় বিক্রি করেই ধান চাষের খরচ তুলছেন। এখন তারা ধান চাষে আরও বেশি আগ্রহী হচ্ছেন।

Link copied