রাজশাহীতে যুব মৈত্রীর নেতার বিরুদ্ধে আ.লীগ কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ

EkattorPost Desk

লিয়াকত হোসেন, রাজশাহী

২৪ নভেম্বর ২০২২, ০৬:৩৫ পিএম


রাজশাহীতে যুব মৈত্রীর নেতার বিরুদ্ধে আ.লীগ কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ

ছবিঃ একাত্তর পোস্ট

একাত্তর পোস্ট অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীর পবা উপজেলার বালিয়া সেনপুকুর এলাকার জয় বাংলা পরিষদের শাখা কার্যালয়ে যুব মৈত্রীর এক নেতার বিরুদ্ধে আ.লীগ কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুর ছবিসহ ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ উঠেছে কাশিয়াডাঙ্গা থানা যুব মৈত্রীর ৩নং যুগ্ন আহ্বায়ক বালিয়া এলাকার মৃত সিদ্দিক চৌকিদারের ছেলে আরিফুল ইসলাম আরিফের বিরুদ্ধে। গত ২৩শে নভেম্বর বুধবার রাত ১২টার দিকে বালিয়া সেনপুকুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার কাশিয়াডাঙ্গা থানায় চার যুবমত্রীর নেতাসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে কাশিয়াডাঙ্গা নবগঙ্গা এলাকার মৃত আব্দুল্লাহেল বাকির ছেলে রবিউল ইসলাম। 

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পবা উপজেলার কাশিয়াডাঙ্গা বালিয়া সেনপুকুর ৫নং হড়গ্রাম ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের জয় বাংলা পরিষদের শাখা কার্যালয়ের সভাপতি রবিউল ইসলাম। বুধবার রাত ১২টার দিকে রবিউল, পবা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজায়ানুল কারিম, বাবুসহ ৫ থেকে ৬ জন কার্যালয়ের ভেতরে বসে ছিলেন। 

কার্যালয়ের সভাপতি রবিউল ও বাবু সাথে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বুধবার হঠাৎ রাত ১২টার দিকে কাশিয়াডাঙ্গা থানার যুব মৈত্রীর ৩নং যুগ্ন আহ্বায়ক বালিয়া এলাকার আরিফের নেতৃত্বে হানিফের ছেলে মাসুদ রানা ডালিম, ইয়াসিন আলীর ছেলে জনি, নবগঙ্গা এলাকার মৃত রসুলের ছেলে হুমায়নসহ অজ্ঞাত ১০ থেকে ১৫ জন দেশী অস্ত্র কানতাই, হাতুড়ী, চাপাতি নিয়ে দলবদ্ধ হয়ে ওই কার্যালয়ে হামলা চালায়।

এ সময় এলোপাতাড়ি কানতাই দিয়ে কুপিয়ে কার্যালয়ের চেয়ার টেবিল, বঙ্গবন্ধুর ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙ্গচুর করে। এ সময় রবিউল ও তার ব্যবসায়ী পার্টনার বাবুর সাথে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। অল্পের জন্য তারা চাপতির কোপ থেকে রক্ষা পায়। এ ঘটনায় প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে রবিউল ইসলামের।

রবিউল ইসলাম জানান, কাশিয়াডাঙ্গা থানা যুবমত্রীর যুগ্ন আহ্বায়ক আরিফের নেতৃত্বে এর আগেও ২০১৬ সালে হড়গ্রাম ইউনিয়ন আ.লীগের ৩নং ওয়ার্ডের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। সেই ঘটনায় ওয়ার্ড আ.লীগ সভাপতি শজাহার মেম্বার মামলা দায়ের করে। সেই মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়া গত ৭ অক্টোবর হরিপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড আ.লীগের কার্যালয়ে যুবমত্রী নেতার নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে কার্যালয়ে ভাঙচুর করে। ওই ঘটনায় মাদক সেবন মামলায় তিন জনকে আটক করে পুলিশ। 

তিনি আরো বলেন, জমি সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আমাকে ও বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে মদ সেবন করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যায় আমার। কিন্তু তারা কার্যালয়ে সাইনবোর্ড ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি, বঙ্গবন্ধুর ছবি, এমপি আয়েনের ছবি ভঙচুর করে।

ণঅভিযোগের বিষয়ে আরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা ১৪ দলের সাথে যুক্ত আছি। প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও সম্মান রয়েছে। তাদের ছবি ভাঙচুর করিনি। ওরা মিথ্যা অভিযোগ করেছে আমাদের বিরুদ্ধে। 

এ বিষয় কাশিয়াডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ এসএম মাসুদ পারভেজ বলেন, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনা স্থল পরিদর্শন করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রবিউল ইসলাম বাদি হয়ে থানায় এজাহার দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান এই ওসি।

Link copied