মোটর সাইকেলে দম্পতির টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ভ্রমণ

EkattorPost Desk

শেখ সাখাওয়াত হোসেন, পাবনা

২৪ নভেম্বর ২০২২, ০৭:২১ পিএম


মোটর সাইকেলে দম্পতির টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ভ্রমণ

ছবিঃ একাত্তর পোস্ট

একাত্তর পোস্ট অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোটর সাইকেলে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ভ্রমণ করেছেন বাংলাদেশের এক তরুণ দম্পতি। ইতোপূর্বে ঘুরেছেন দেশ ও দেশের বাইরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। হঠাৎ তার মনে হলো, নিজের জীবনসঙ্গী স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরলে কেমন হয়? তিনি কি শুধুই ঘরের কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবেন? তারও তো বেড়ানোর দরকার আছে। এ চিন্তা থেকেই দু’জনের পরিকল্পনা একসঙ্গে বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত ঘুরে দেখার।

তাই স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মোটর সাইকেলে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখলেন পাবনার চাটমোহর পৌর সদরের মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে সাংবাদিক বকুল রহমান। তিনি দৈনিক ভোরের কাগজের চাটমোহর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি ভেটেরিনারি ব্যবসায়ও যুক্ত।

পাবনার চাটমোহর থেকে গত ১৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় যাত্রা শুরু করে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত তারা মোটর সাইকেলে দুই হাজার কিলোমিটার রাস্তা ভ্রমণ করেছেন। দেশের বিভিন্ন প্রত্নতাত্তিক নিদর্শন দেখে সুস্থভাবে ভ্রমণ শেষে তারা ২৩ নভেম্বর বাড়িতে ফিরেছেন।

একান্ত আলাপকালে সাংবাদিক বকুল রহমান বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছুই পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগেই হোক কিংবা মানুষের কারণেই হোক, দেশের কোন প্রত্ন নিদর্শন শেষ হওয়ার আগে আমি তার সাক্ষী  হতে চাই। যে সফরের সঙ্গী হিসাবে আমি বেছে নিয়েছি নিজের জীবন সঙ্গীকেই।

তিনি বলেন, মোটর সাইকেলে সারাদেশ দেখার লম্বা যাত্রায় এক বা একাধিক বন্ধু থাকাটা হয়তো স্বস্তির হতো। তবে আমার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু তো আমার স্ত্রীই। আমি যা দেখবো, সে কেন সেটা দেখা থেকে বঞ্চিত হবে? একসাথে এমন ভ্রমণে দৃঢ় হবে নিজেদের বন্ধনও।

এ ভ্রমণ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, গত ১৬ নভেম্বর চাটমোহর থেকে রওনা হয়ে ওইদিন সন্ধ্যায় পৌঁছাই তেঁতুলিয়ায়। ১৮ নভেম্বর বাংলাবান্ধা জিরোপয়েন্ট থেকে মোটর সাইকেল যোগে আমাদের যাত্রা শুরু হয়। ২০ নভেম্বর পৌঁছাই টেকনাফে। স্ত্রী সঙ্গে থাকায় নিরাপত্তার জন্য শুধু দিনের বেলাতেই যাত্রা করি।

বকুল রহমান জানান, ঝুঁকি কমানোর জন্য রাতে ভ্রমণ না করা, শারীরিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় ভ্রমণ পরিকল্পনা আগ-পিছ করা, নিরাপত্তার সব অনুষঙ্গ ফলো করা, সবই পরিকল্পিতভাবেই করেছি। তেঁতুলিয়া থেকে টেফনাফ যাওয়ার পর ফেরার পথে দেশের বিভিন্ন প্রত্ননিদর্শন দেখতে দেখতে ২৩ নভেম্বর চাটমোহরে বাড়িতে ফিরেছি।

ভ্রমণকালে তেঁতুলিয়া জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের বিভিন্ন অঞ্চল, হিমছড়িতে নীল সমুদ্র সৈকত, লাল কাঁকড়া, সবচেয়ে সুন্দর পাহাড়গুলোর কয়েকটি, বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন শহর পানাম নগর অন্যতম ভাল লেগেছে বলে জানান তিনি।

এর আগে অনেক জায়গায় গেলেও এত সুন্দরভাবে এবং এত সুন্দর পরিবেশে কখনো এগুলো দেখতে পারেননি উল্লেখ করে বকুল রহমান বলেন, বাংলাদেশ আসলে এত সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ আছে, যা পৃথিবীর অনেক দেশকেই হার মানায়। শুধুমাত্র আমাদের দেশের এই দর্শনীয় স্থানগুলোতে সরকার যদি বিভিন্ন পর্যটনের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আসে, পরিবেশটা ভালো রাখে এবং জীববৈচিত্রের প্রতি সংবেদনশীলতা দেখায়, তাহলে এদেশের পর্যটন শিল্পে অনেক এগিয়ে যেতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।

এক প্রতিক্রিয়ায় বকুল রহমানের সফরসঙ্গী তার স্ত্রী আকলিমা আনোয়ার রত্না বলেন, আমার স্বামী বেড়াতে খুব পছন্দ করে। আমারও খুব পছন্দ। ঘর সংসার সামলাতে গিয়ে সবসময় তো বেড়ানো হয়ে উঠে না। যখন সে বললো মোটর সাইকেলে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া আমাকে নিয়ে বেড়াতে যাবে তখন খুব খুশি হই। এ ভ্রমণটা আমার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। 

Link copied